হজ ও উমরাহর পার্থক্য ২০২৬: নিয়ম, খরচ ও প্রস্তুতির পূর্ণ তুলনা
হজ আর উমরাহর মধ্যে বিধান, সময়, আমল, নিবন্ধন, ভিসা ও খরচে কী কী পার্থক্য, তা এই লেখায় পাশাপাশি রেখে দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার আগে কোন সিদ্ধান্ত নেবেন আর এজেন্সির কী কী যাচাই করবেন, সেটাও এখানে আছে।
হজ আর উমরাহ, দুটোই মক্কার পবিত্র সফর। তবে বিধান, সময়, আমল, নিবন্ধন আর খরচে দুটোর মধ্যে বড় পার্থক্য আছে। অনেকে ভাবেন উমরাহ মানে 'ছোট হজ', আর একবার উমরাহ করে এলেই দায়িত্ব শেষ। এই ধারণা ঠিক নয়। এই লেখায় বাংলাদেশি পাঠকের দিক থেকে দুটো সফরের সম্পূর্ণ তুলনা দেওয়া হলো, যাতে পরিবার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
হজ ও উমরাহ: এক নজরে মূল পার্থক্য

| বিষয় | হজ | উমরাহ |
|---|---|---|
| হুকুম | সামর্থ্যবানের ওপর জীবনে একবার ফরজ | সুন্নত (কিছু মাযহাবে ওয়াজিব বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা) |
| সময় | শুধু জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২/১৩ তারিখ | প্রায় সারা বছর (হজের দিনগুলো বাদে) |
| প্রধান আমল | ইহরাম, আরাফাতে অবস্থান, মুজদালিফা, মিনায় কংকর নিক্ষেপ, কুরবানি, তাওয়াফ, সাঈ | ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ, চুল কাটা |
| সরকারি নিবন্ধন | বাধ্যতামূলক (প্রাক-নিবন্ধন ও চূড়ান্ত নিবন্ধন) | হজের মতো সরকারি নিবন্ধন লাগে না |
| কোটা | দেশভিত্তিক কোটা আছে | হজের মতো কোটা নেই |
| বারবার করা | ফরজ একবার, পরেরগুলো নফল | যতবার ইচ্ছা করা যায় |
হজ কার ওপর ফরজ — 'সামর্থ্য' বলতে কী বোঝায়
ফিকহের সাধারণ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হজ ফরজ হতে কয়েকটি শর্ত একসাথে থাকতে হয়:
- মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্ক হতে হবে।
- আর্থিক সামর্থ্য: যাওয়া-আসার পুরো খরচ থাকতে হবে। সেই টাকা মৌলিক প্রয়োজন আর ফেরা পর্যন্ত পরিবারের ভরণপোষণের বাইরে হতে হবে।
- শারীরিক সামর্থ্য: সফর আর আমলের ধকল সহ্য করার মতো শরীর থাকতে হবে।
- পথের নিরাপত্তা: যাতায়াত নিরাপদ ও সম্ভব হতে হবে।
- মহিলাদের জন্য মাহরাম: হানাফি মাযহাবে মহিলাদের সঙ্গে মাহরাম থাকা শর্ত।
ঋণ থাকলে কী হবে? সাধারণ মত হলো, যে ঋণ এখনই শোধ করার কথা, সেটা আগে শোধ করতে হয়। কিস্তির দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বা বয়স্ক-অসুস্থ ব্যক্তির 'বদলি হজ' নিয়ে আলাদা আলাদা বিধান আছে। নিজের অবস্থা জানিয়ে একজন নির্ভরযোগ্য আলেম বা ফতোয়া বিভাগ থেকে সমাধান নিন।
উমরাহ করলে কি ফরজ হজ আদায় হয়?
না। উমরাহ যতবারই করুন, তাতে ফরজ হজ আদায় হয় না। এটি সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর একটি। উমরাহ আলাদা একটি ইবাদত। হজ ফরজ হয়ে থাকলে সেটা আলাদাভাবেই আদায় করতে হবে।
হজ ফরজ হওয়ার আগে উমরাহ করায় কোনো বাধা নেই। তবে কারও ওপর হজ ফরজ হয়ে গেলে বারবার উমরাহর চেয়ে আগে হজ আদায়ের চেষ্টা করাই উত্তম। আলেমরা সাধারণত দেরি না করার পরামর্শ দেন।
আমলের কাঠামো: ফরজ, ওয়াজিব ও ধাপের তুলনা

হানাফি ফিকহের প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী কাঠামোটা মোটামুটি এরকম:
| আমল | হজে | উমরাহয় |
|---|---|---|
| ইহরাম | ফরজ (শর্ত) | ফরজ (শর্ত) |
| আরাফাতে অবস্থান (উকুফ) | ফরজ — বাদ গেলে হজ হয় না | নেই |
| তাওয়াফ | তাওয়াফে জিয়ারত ফরজ; বিদায়ী তাওয়াফ ওয়াজিব | তাওয়াফ ফরজ |
| সাঈ (সাফা-মারওয়া) | ওয়াজিব | ওয়াজিব |
| মুজদালিফায় অবস্থান ও কংকর নিক্ষেপ | ওয়াজিব | নেই |
| কুরবানি (হাদি) | তামাত্তু ও কিরানে ওয়াজিব | নেই |
| চুল কাটা বা মুণ্ডন | ওয়াজিব | ওয়াজিব |
ভুল হলে কী হয়? ফরজ বাদ গেলে হজ বা উমরাহ আদায় হয় না। ওয়াজিব বাদ গেলে সাধারণত 'দম' (একটি পশু কুরবানি) দিতে হয়। ইহরামের কিছু নিষেধ ভাঙলে সদকা বা কাফফারা লাগতে পারে। প্রতিটি ক্ষেত্রের বিধান আলাদা, তাই সফরের আগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হজ গাইড বই পড়ে নিন আর গ্রুপের আলেম গাইডের সাথে আলোচনা করুন।
হজের তিন প্রকার: তামাত্তু, কিরান ও ইফরাদ
- তামাত্তু: হজের মাসে প্রথমে উমরাহ করে ইহরাম খুলে ফেলা হয়। পরে ৮ জিলহজ নতুন করে হজের ইহরাম বাঁধা হয়। কুরবানি ওয়াজিব। বাংলাদেশি হাজিদের বেশিরভাগ সাধারণত এই পদ্ধতিতেই হজ করেন, কারণ তাঁরা হজের কয়েক সপ্তাহ আগে পৌঁছান।
- কিরান: একই ইহরামে উমরাহ আর হজ দুটোই করা হয়। মাঝখানে ইহরাম খোলা যায় না। কুরবানি ওয়াজিব।
- ইফরাদ: শুধু হজের ইহরাম, সঙ্গে উমরাহ নেই। কুরবানি ওয়াজিব নয়, তবে করলে মুস্তাহাব।
তামাত্তু আর কিরানে উমরাহ হজের অংশ হয়ে যায়। এই কারণেই অনেকে বলেন, 'একই সফরে হজ-উমরাহ দুটোই হয়েছে।'
নিবন্ধন: হজে লাগে, উমরাহয় লাগে না

বাংলাদেশ থেকে হজে যেতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থায় নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। নিবন্ধন হয় সরকারি ই-হজ সিস্টেমে (hajj.gov.bd) বা মন্ত্রণালয়-অনুমোদিত হজ এজেন্সির মাধ্যমে। ধাপগুলো মোটামুটি এরকম:
- প্রাক-নিবন্ধন (নির্দিষ্ট ফি দিয়ে)
- প্রাথমিক নিবন্ধন (নির্ধারিত অংকের টাকা জমা দিয়ে)
- চূড়ান্ত নিবন্ধন (প্যাকেজের বাকি টাকা দিয়ে)
উদাহরণ হিসেবে ২০২৬ সালের হজের হিসাব দেখা যাক। মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন ২৭ জুলাই (২০২৫) থেকে শুরু হবে এবং এতে চার লাখ টাকা জমা দিতে হবে। ২০২৭ সালের হজের জন্য ৩০ হাজার টাকায় প্রাক-নিবন্ধন এবং সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধনের কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন।
সরকারি আর বেসরকারি ব্যবস্থার পার্থক্য: সরকারি ব্যবস্থায় প্যাকেজ আর সেবা মন্ত্রণালয় ঠিক করে। বেসরকারি ব্যবস্থায় অনুমোদিত হজ এজেন্সি গ্রুপ পরিচালনা করে। তাদের প্যাকেজে হোটেল, খাবার আর সেবার মান এজেন্সিভেদে আলাদা হয়।
উমরাহর জন্য হজের মতো সরকারি প্রাক-নিবন্ধন বা কোটা নেই। ভিসা আর প্যাকেজ এজেন্সির মাধ্যমেই করা যায়। নিবন্ধনের তারিখ আর ফি প্রতি বছর বদলায়, তাই সর্বশেষ তথ্যের জন্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি যাচাই করুন।
ভিসা, নুসুক ও মহিলাদের মাহরাম প্রসঙ্গ
হজ ভিসা আর উমরাহ ভিসা সম্পূর্ণ আলাদা। হজ ভিসা দেওয়া হয় শুধু নিবন্ধিত হাজিদের, নির্দিষ্ট মৌসুমে। উমরাহ ভিসা সারা বছর পাওয়া যায়। সৌদি সরকার হজ-উমরাহর অনেক সেবা তাদের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম নুসুক (Nusuk)-এর মাধ্যমে দেয়। রওজা শরিফে যাওয়ার অনুমতির মতো বিষয়ও এখান থেকে নিতে হয়।
মহিলাদের মাহরাম: মাহরাম নিয়ে সৌদি সরকারের ভিসা-নীতি আর ফিকহের বিধান এক জিনিস নয়। সৌদি নিয়ম সময়ে সময়ে বদলেছে। অন্যদিকে হানাফি মাযহাবে মহিলাদের হজ-উমরাহ সফরে মাহরাম থাকা শর্ত। তাই ধর্মীয় দিকটা আলেমের কাছ থেকে জেনে নিন। বয়স, কাগজপত্র আর ভিসার সর্বশেষ শর্তের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করে জেনে নিন।
সময়সূচি: ২০২৬-এর হজ ও উমরাহর সময়
হজ হয় হিজরি ক্যালেন্ডারে, তাই প্রতি বছর ইংরেজি তারিখ প্রায় ১০-১১ দিন এগিয়ে আসে। ২০২৬ সালের প্যাকেজ ঘোষণার সময় জানানো হয়েছিল, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৬ সালের হজ ২৬ মে নাগাদ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পরের বছরের হজও একইভাবে আরও আগে পড়বে। চূড়ান্ত তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে।
উমরাহ হজের দিনগুলো ছাড়া প্রায় সারা বছর করা যায়। রমজান, বিশেষ করে শেষ দশকে, সাধারণত সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকে, আর এ সময় হোটেলের দামও বাড়ে। স্কুলের ছুটির মৌসুমেও চাপ বেশি থাকে। কম ভিড়ে যেতে চাইলে কোন মাস ভালো হবে আর তখন প্যাকেজ খালি আছে কি না, সেটা যোগাযোগ করে জেনে নিন।
খরচ কোথায় যায় — কেন প্যাকেজের দাম কম-বেশি
সরকারি ঘোষণা থেকে হজের খরচ সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। ২০২৬ সালে সরকার তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল: বিশেষ প্যাকেজ-১ প্রায় ৬.৯০ লাখ, প্যাকেজ-২ প্রায় ৫.৫৮ লাখ আর ইকোনমি প্যাকেজ-৩ প্রায় ৪.৬৭ লাখ টাকা। বেসরকারি এজেন্সির সাধারণ প্যাকেজ ছিল প্রায় ৫.০৯ লাখ টাকা।
দামের পার্থক্য কোথা থেকে আসে, সেটা ইকোনমি প্যাকেজের বিবরণ দেখলে বোঝা যায়। ইকোনমি প্যাকেজে মক্কায় আজিজিয়া এলাকায় থাকার ব্যবস্থা, এক রুমে সর্বোচ্চ ছয়জন আর মিনায় জোন-৫-এ তাঁবু ছিল। মোট খরচ সাধারণত এই খাতগুলোতে যায়:
- বিমান ভাড়া: সরাসরি ফ্লাইট নাকি ট্রানজিট
- হোটেল: হারাম থেকে দূরত্ব আর এক রুমে কয়জন থাকবেন
- মিনা-আরাফাতের তাঁবু ও সার্ভিস ক্যাটাগরি (শুধু হজে)
- খাবার, স্থানীয় যাতায়াত, ভিসা ও সৌদি সরকারের নির্ধারিত ফি
- কুরবানি (তামাত্তু-কিরানে), যা অনেক প্যাকেজে আলাদা ধরা থাকে
সস্তা প্যাকেজে সাধারণত হোটেল দূরে হয়, রুমে বেশি মানুষ থাকে আর ফ্লাইট ট্রানজিটে যায়। বুকিংয়ের আগে লিখিতভাবে জেনে নিন কী কী ধরা আছে আর কী নেই। সৌদি সরকারের খরচ বাড়লে-কমলে প্যাকেজের দামও বদলায়। তাই চূড়ান্ত দামের জন্য সর্বশেষ ঘোষণা যাচাই করুন।
SaudiJabo-র উমরাহ প্যাকেজ: সময় ও বাস্তব তথ্য
পাঠকেরা প্রায়ই জানতে চান, বুকিং দিলে কত দিনে রওনা হওয়া যায়। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে কয়েকটা কথা খোলাখুলি জানাই:
- প্রসেসিং সময়: সাধারণত ৫ দিনের মধ্যেই আমরা কাজ শেষ করতে পারি। এর মধ্যে ভিসা লাগাতে আমাদের সাধারণত এক দিন সময় লাগে।
- তারিখ নিয়ে সততা: আপনার চাওয়া তারিখের কাছাকাছি প্যাকেজ ভরে গেলে আমরা যে তারিখের প্যাকেজে জায়গা খালি আছে সেটাতে ব্যবস্থা করে দিই। তাই তারিখ নিয়ে নির্দিষ্ট চাহিদা থাকলে আগে থেকে যোগাযোগ করুন।
- প্যাকেজের মেয়াদ: আমরা ৮ দিনের প্যাকেজ করি না। আমাদের প্যাকেজ সর্বনিম্ন ১৩-১৫ দিনের।
- দাম কেন কম-বেশি: পার্থক্যটা মূলত তিন জায়গায়। হোটেল হারামের কাছে নাকি দূরে, ফ্লাইট সরাসরি নাকি ট্রানজিট, আর খাবার ভালো মানের নাকি মোটামুটি। তবে সব প্যাকেজেই আমরা ভালো খাবার দেওয়ার চেষ্টা করি।
বর্তমান দাম, কোন তারিখে জায়গা খালি আছে আর আপনাকে নিজে কোন কাগজপত্র জোগাড় করতে হবে, এসবের জন্য সরাসরি যোগাযোগ করে জেনে নিন।
স্বাস্থ্য ও প্রস্তুতি
হজে প্রচণ্ড গরম, ভিড় আর দীর্ঘ হাঁটা থাকে, তাই উমরাহর তুলনায় শারীরিক ধকল অনেক বেশি। মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যগত কারণে কিছু মানুষকে হজের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করে। ২০২৭ সালের হজের জন্য ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনির দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিসহ কয়েক শ্রেণির মানুষকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
- যাওয়ার আগে পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। নিয়মিত ওষুধ খেলে প্রেসক্রিপশনসহ পর্যাপ্ত ওষুধ সঙ্গে নিন।
- সৌদি কর্তৃপক্ষ মেনিনজাইটিসসহ কিছু টিকা চায়। প্রয়োজনীয় টিকার তালিকা বছরভেদে বদলায়, তাই সর্বশেষ তালিকা যাচাই করুন।
- বয়স্করা অন্তত এক মাস আগে থেকে রোজ হাঁটার অভ্যাস করুন। আরামদায়ক জুতা নিন, ছাতা আর পানির বোতল সঙ্গে রাখুন।
এজেন্সি বাছাইয়ের আগে যাচাই-চেকলিস্ট
- এজেন্সি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত তালিকায় আছে কি না, hajj.gov.bd-তে মিলিয়ে দেখুন।
- অফিসের ঠিকানায় গিয়ে নিজে কথা বলুন। শুধু ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়ার পেজ দেখে টাকা দেবেন না।
- হোটেলের নাম ও হারাম থেকে দূরত্ব, ফ্লাইটের ধরন, খাবার আর রুম শেয়ারিং লিখিতভাবে নিন।
- টাকা দেওয়ার পর রসিদ নিন। সম্ভব হলে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করুন।
- বাজারের তুলনায় অস্বাভাবিক কম দাম দেখলে সতর্ক হোন। কী কী বাদ দেওয়া হয়েছে, জিজ্ঞেস করুন।
- সরকারি নিয়ম, ফি আর তারিখ প্রতি বছর বদলায়। সর্বশেষ তথ্যের জন্য সবসময় সরকারি সূত্রে যাচাই করুন।
হজ না উমরাহ, কোনটা দিয়ে শুরু করবেন সেটা নির্ভর করে আপনার ওপর হজ ফরজ হয়েছে কি না, বাজেট কত আর শরীর কেমন তার ওপর। প্রশ্ন থাকলে ঢাকার নয়া পল্টনে SaudiJabo-র অফিসে আসুন বা ফোন করুন। আমরা যা জানি, খোলাখুলি জানাব।
✈️ এই বিষয়ে সাহায্য দরকার?
হজ্জ, উমরাহ ও সৌদি ভিসা নিয়ে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা আছি।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
উমরাহ করলে কি হজের ফরজ আদায় হয়ে যায়?
না। উমরাহ আলাদা একটি ইবাদত। যতবারই উমরাহ করুন, ফরজ হজ আলাদাভাবে আদায় করতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে হজে যেতে কীভাবে নিবন্ধন করব?
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ই-হজ সিস্টেমে (hajj.gov.bd) বা অনুমোদিত হজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রাক-নিবন্ধন, প্রাথমিক আর চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হয়। তারিখ ও ফি প্রতি বছর বদলায়, তাই সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করুন।
মহিলারা কি মাহরাম ছাড়া হজ বা উমরাহয় যেতে পারবেন?
সৌদি সরকারের ভিসা-নীতি আর ফিকহের বিধান আলাদা বিষয়। হানাফি মাযহাবে মহিলাদের সফরে মাহরাম থাকা শর্ত। ধর্মীয় দিক আলেমের কাছ থেকে আর ভিসার সর্বশেষ শর্ত আমাদের সাথে যোগাযোগ করে জেনে নিন।
SaudiJabo-তে উমরাহর প্রসেসিংয়ে কত দিন লাগে?
সাধারণত ৫ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করা যায়, আর ভিসা লাগাতে প্রায় এক দিন সময় লাগে। কাছের তারিখের প্যাকেজ ভরে গেলে যে তারিখে জায়গা খালি আছে সেটাতে ব্যবস্থা করা হয়।
SaudiJabo-তে কি ৮ দিনের উমরাহ প্যাকেজ আছে?
না। আমাদের প্যাকেজ সর্বনিম্ন ১৩-১৫ দিনের। দামের পার্থক্য নির্ভর করে হোটেলের দূরত্ব, ফ্লাইটের ধরন (সরাসরি বা ট্রানজিট) আর খাবারের মানের ওপর। বর্তমান দাম জানতে যোগাযোগ করুন।
ঋণ থাকলে কি হজ ফরজ হয়?
সাধারণ মত হলো, এখনই শোধ করার কথা এমন ঋণ আগে শোধ করতে হয়। কিস্তির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মতো ক্ষেত্রে বিধান আলাদা হতে পারে, তাই নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নিন।