দুবাই ভিসা ২০২৬: খরচ, বর্তমান অবস্থা ও চেক করার নিয়ম
বাংলাদেশিদের জন্য দুবাই ভিসা পুরোপুরি বন্ধ নয়, তবে আগের মতো সহজও নয়। দুবাই ভিসা কত টাকা, ভিসা খোলা আছে কি না, পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে ভিসা চেক করার নিয়ম আর প্রতারণা এড়ানোর উপায় ধাপে ধাপে দেওয়া হলো।
বাংলাদেশিদের জন্য দুবাই ভিসা পুরোপুরি বন্ধ নয়, তবে আগের মতো সহজও নয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আমিরাত কোনো ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া প্রায় বন্ধ করে দেয়। ২০২৫ সালের মে থেকে সীমিত সংখ্যায় ভিজিট ভিসা ও কিছু দক্ষ পেশার ওয়ার্ক ভিসা আবার দেওয়া শুরু হয়।
এর মধ্যে নতুন দুশ্চিন্তা যোগ হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, জুলাই থেকে আমিরাতে প্রায় ৪,৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে।
এক নজরে বর্তমান অবস্থা:
- টুরিস্ট/ভিজিট ভিসা: সীমিতভাবে হচ্ছে, কাগজপত্র যাচাই কড়া, রিজেক্টের হার বেশি
- ওয়ার্ক ভিসা: কিছু দক্ষ পেশায় সীমিতভাবে হচ্ছে, সাধারণ শ্রমিক ভিসা কার্যত বন্ধ
- অন অ্যারাইভাল ভিসা: বাংলাদেশি পাসপোর্টে নেই, আগে থেকে ভিসা নিতে হবে
- ফ্রি ভিসা: আমিরাতের আইনে এই নামে কোনো ভিসা নেই
নিচে খরচ, ভিসা চেক করার নিয়ম আর প্রতারণা এড়ানোর উপায় ধাপে ধাপে দেওয়া হলো।
দুবাই ভিসা কত টাকা ২০২৬
দুবাইয়ের ৩০ দিনের টুরিস্ট ভিসার অনলাইন খরচ প্রায় ৩৪০ দিরহাম, অর্থাৎ আনুমানিক ১১,৪০০ টাকা। তবে বাংলাদেশি এজেন্সিগুলো এর চেয়ে অনেক বেশি নেয়, কারণ বাংলাদেশি পাসপোর্টে অনুমোদন পাওয়া কঠিন আর রিজেক্ট হলে টাকা ফেরত হয় না।
| ভিসার ধরন | মেয়াদ | অনলাইন খরচ (দিরহাম) | বাংলাদেশি টাকায় (আনুমানিক) |
|---|---|---|---|
| টুরিস্ট, সিঙ্গেল এন্ট্রি | ৩০ দিন | ৩৪০ | ১১,৪০০ |
| টুরিস্ট, মাল্টিপল এন্ট্রি | ৩০ দিন | ৪৭৩ | ১৫,৯০০ |
| টুরিস্ট, সিঙ্গেল এন্ট্রি | ৬০ দিন | ৫৩৫ | ১৭,৯০০ |
| টুরিস্ট, মাল্টিপল এন্ট্রি | ৬০ দিন | ৭২৫ | ২৪,৩০০ |
| বাংলাদেশি এজেন্সির প্যাকেজ | ৩০ দিন | — | ১ লক্ষ্য থেকে ২ লক্ষ্য টাকা |
| বাংলাদেশি এজেন্সির প্যাকেজ | ৬০ দিন | — | ২ লক্ষ্য থেকে ৪ লক্ষ্য টাকা |
হিসাব: ১ দিরহাম = ৩৩.৫৫ টাকা (১০ অক্টোবর ২০২৬)। অনলাইন খরচে সরকারি ফি, সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট ধরা আছে (সূত্র)। টাকার রেট প্রতিদিন বদলায়, তাই আবেদনের দিন মিলিয়ে নিন।
ভিসা ফির বাইরে যে খরচ লাগবে:
- রিটার্ন টিকেট (আবেদনেই লাগে)
- হোটেল বুকিংয়ের কনফার্মেশন
- ট্রাভেল ইন্সুরেন্স
- অনেক ক্ষেত্রে এয়ারলাইন বা এজেন্সি সিকিউরিটি ডিপোজিট চায়, সময়মতো ফিরলে ফেরত দেয়
সতর্কতা: কেউ যদি বলে “গ্যারান্টি ভিসা”, সেটা বিশ্বাস করবেন না। ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু আমিরাতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের, কোনো এজেন্সির নয়।
দুবাই ভিসা খোলা আছে কি? গুজব বনাম আসল তথ্য
উত্তর: আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ নয়, কিন্তু বাস্তবে সীমিত। আমিরাত সরকার কখনো বাংলাদেশিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়নি, আবার পুরোপুরি খোলার ঘোষণাও দেয়নি। নিচের টেবিলে প্রতিটি ঘটনা তারিখ ও সূত্রসহ দেওয়া হলো, সবশেষটা আগে।
| তারিখ | কী ঘটেছে | সত্য না গুজব |
|---|---|---|
| ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, জুলাই থেকে প্রায় ৪,৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে, কারণ আমিরাতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা। বাংলাদেশ পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছে (ইত্তেফাক) | সত্য |
| ২ মে ২০২৬ | আমিরাতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ওয়ার্ক পারমিট ও টুরিস্ট ভিসা আবার চালুর দাবি জানান, অর্থাৎ তখনও পুরোপুরি চালু হয়নি (Business in Bangladesh) | সত্য |
| ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | আমিরাতের হালনাগাদ তালিকায় বাংলাদেশসহ ১০৭ দেশের নাগরিককে আগে থেকে ভিসা নিতে হবে (যুগান্তর) | সত্য |
| ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | “জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাংলাদেশসহ ৯ দেশে ভিসা নিষেধাজ্ঞা” খবর ছড়ায়। রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ জানান, খবরটি একটি ভিসা ওয়েবসাইট থেকে এসেছে, আমিরাত সরকার এমন কিছু বলেনি (বাংলা ট্রিবিউন) | গুজব |
| ৪ মে ২০২৫ | আমিরাতের রাষ্ট্রদূত জানান, ঢাকার দূতাবাস দিনে ৩০–৫০টি ভিজিট ভিসা দিচ্ছে আর দক্ষ কর্মী ভিসার অনলাইন সিস্টেম আবার চালু হয়েছে (ঢাকা ট্রিবিউন) | সত্য |
| সেপ্টেম্বর ২০২৪ | আমিরাত ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশিদের ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দেয় (বাংলা ট্রিবিউন) | সত্য |
গুজব চেনার তিনটি উপায়
- খবরের উৎস দেখুন। আমিরাতের ICP, GDRFA, বাংলাদেশ দূতাবাস বা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ছাড়া কারও ঘোষণা চূড়ান্ত নয়।
- কোনো ভিসা এজেন্সির ওয়েবসাইট “ভিসা খুলেছে” বা “বন্ধ হয়েছে” বললে সেটা সরকারি তথ্য নয়।
- খবরে তারিখ দেখুন। ২০২৫ সালের খবর অনেক সাইট ২০২৬ লিখে আবার পোস্ট করে।
দুবাই ভিসা কবে খুলবে?
পুরোপুরি খোলার কোনো তারিখ আমিরাত বা বাংলাদেশ সরকার এখনো ঘোষণা করেনি। কেউ নির্দিষ্ট তারিখ বললে ধরে নিন সেটা অনুমান। তবে কিছু পথ এখনই খোলা আছে:
- কোম্পানির সরাসরি নিয়োগ: মে ২০২৬-এ দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি জানিয়েছে, এ বছর ৬,০০০ বাংলাদেশি ড্রাইভার নেবে, প্রথম ধাপে ১,৫০০ জন। সাক্ষাৎকার হয়েছে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে, আর বাংলাদেশে একমাত্র অনুমোদিত এজেন্সি আল আনাস ওভারসিজ (অবজারভার)। সরকার খরচ ১ লাখ টাকার মধ্যে রাখতে অনুরোধ করেছে।
- দক্ষ পেশার ভিসা: মার্কেটিং ম্যানেজার, হোটেল স্টাফের মতো পেশায় ভিসা হচ্ছে, আমিরাতের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন সিস্টেমে।
- ভিজিট ভিসা: সীমিত সংখ্যায় হচ্ছে, বিশেষ করে যাদের ভালো ভ্রমণ ইতিহাস আর ব্যাংক স্টেটমেন্ট আছে।
সাধারণ শ্রমিক বা “কোম্পানি ভিসা” এখনো আগের মতো চালু হয়নি। তাই কোনো দালাল ক্লিনার বা লেবার ভিসার কথা বলে অগ্রিম টাকা চাইলে আগে বিএমইটিতে এজেন্সির লাইসেন্স আর চাকরির অনুমোদন যাচাই করুন।
দুবাই টুরিস্ট ভিসা: বাংলাদেশ থেকে আবেদনের নিয়ম
বাংলাদেশিরা নিজে সরাসরি আবেদন করতে পারে না, আমিরাতের কোনো স্পনসরের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। স্পনসর হতে পারে এয়ারলাইন (Emirates, flydubai), আমিরাতের লাইসেন্সধারী ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল, বা আমিরাতে বৈধভাবে থাকা আত্মীয়।
যে কাগজপত্র লাগে
- কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদি পাসপোর্ট
- সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে সাম্প্রতিক ছবি
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- শেষ ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট
- হোটেল বুকিং ও রিটার্ন টিকেট
- অনেক এজেন্সি আগের ভ্রমণের প্রমাণ চায়: আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, শেনেন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া বা চীনের ভিসার কপি (UNB)
আবেদনের ধাপ
- স্পনসর বা এজেন্সি বেছে নিন, আর তারা আমিরাতে লাইসেন্সধারী কি না যাচাই করুন।
- কাগজপত্রের স্ক্যান কপি জমা দিন। পাসপোর্টের নাম আর আবেদনের নাম হুবহু মিলতে হবে।
- ফি পরিশোধ করুন ও রশিদ রাখুন। রিজেক্ট হলে সাধারণত টাকা ফেরত হয় না।
- অনুমোদন হলে ইমেইলে ই-ভিসা আসবে। পরের সেকশনের নিয়মে ICP ওয়েবসাইটে যাচাই করুন।
- ই-ভিসা প্রিন্ট করে সাথে নিন। বিমানবন্দরে হোটেল বুকিং, রিটার্ন টিকেট আর খরচের টাকা দেখাতে হতে পারে।
বাংলাদেশি পাসপোর্টে অন অ্যারাইভাল ভিসা নেই, তাই ই-ভিসা হাতে না পেয়ে টিকেট কাটবেন না।
দুবাই ভিসা চেক করার নিয়ম (অনলাইনে)

শুধু পাসপোর্ট নম্বর দিয়েই আমিরাতের সরকারি ওয়েবসাইটে ভিসা আসল কি না যাচাই করা যায়। এজেন্সি ভিসার কপি দিলে টিকেট কাটার আগে অবশ্যই এই চেক করুন।
আবুধাবি, শারজাহসহ অন্য আমিরাতের ভিসা: ICP ওয়েবসাইট
- smartservices.icp.gov.ae ওয়েবসাইটে যান।
- উপরের মেনু থেকে File Validity অপশনে ক্লিক করুন।
- “Search by” অংশে Passport Information বেছে নিন।
- টুরিস্ট বা এন্ট্রি পারমিটের জন্য Visa, আর ইকামা/রেসিডেন্সের জন্য Residency বেছে নিন।
- পাসপোর্ট নম্বর আর পাসপোর্টের মেয়াদ শেষের তারিখ দিন।
- Nationality তালিকা থেকে Bangladesh বেছে নিন।
- Captcha টিক দিয়ে Search ক্লিক করুন। ভিসার ধরন, স্ট্যাটাস আর মেয়াদ দেখাবে।
দুবাইয়ের ইস্যু করা ভিসা: GDRFA ওয়েবসাইট
দুবাই থেকে ইস্যু হওয়া ভিসা অনেক সময় ICP-তে দেখায় না। তখন gdrfad.gov.ae ওয়েবসাইটের ভিসা বা ফাইল ভ্যালিডিটি অনুসন্ধান অপশনে পাসপোর্ট বা ফাইল নম্বর দিয়ে খুঁজুন (Wego)।
“No record found” দেখালে: পাসপোর্ট নম্বর আর জাতীয়তা আবার মিলিয়ে দেখুন, তারপর GDRFA-তে চেক করুন। দুই জায়গাতেই না পেলে সেই ভিসা নিয়ে যাত্রা করবেন না, এজেন্সিকে লিখিত ব্যাখ্যা চান।
দুবাই ফ্রি ভিসা: আসলে কী, আর কেন এটা ফাঁদ

আমিরাতের আইনে “ফ্রি ভিসা” নামে কোনো ভিসা নেই। দালালরা এই নামে যা বিক্রি করে, সেটা আসলে একটি কোম্পানির নামে নেওয়া ওয়ার্ক ভিসা, যেখানে আসলে কোনো চাকরি নেই। দুবাই গিয়ে নিজেকেই কাজ খুঁজতে হয়।
কেন এটা বিপজ্জনক
- যে কোম্পানির নামে ভিসা, তার বাইরে কাজ করা অবৈধ। ধরা পড়লে জরিমানা আর দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি আছে।
- কোম্পানি যেকোনো সময় ভিসা বাতিল করতে পারে, আর আপনি তখন অবৈধ হয়ে যাবেন।
- ভিসা নবায়নের সময় আবার দালালকে বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয়।
আইন কী বলে: আমিরাতের শ্রম আইনের (ফেডারেল ডিক্রি ল নং ৩৩/২০২১) ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী নিয়োগকর্তা কর্মীর কাছ থেকে নিয়োগের খরচ নিতে পারে না। বেতন থেকে কেটে নেওয়াও নিষিদ্ধ (Gulf News)। অর্থাৎ আসল চাকরির ভিসার ফি দেওয়ার কথা নিয়োগকর্তার।
প্রতারণা চেনার লক্ষণ
- কোন কোম্পানি, কী পদ, কত বেতন এসব লিখিত দিতে চায় না
- বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র (স্মার্ট কার্ড) ছাড়া পাঠাতে চায়
- “দুবাই গিয়ে যেকোনো কাজ করতে পারবেন” বলে
- ভিসার কপি ICP বা GDRFA-তে খুঁজে পাওয়া যায় না
আমিরাতে বেতন বা নিয়োগের খরচ নিয়ে অভিযোগ করতে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের (MOHRE) লেবার ক্লেইম সেন্টারে ৮০০ ৮৪ নম্বরে ফোন করা যায়।
দুবাই ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক ভিসা করা যায় কি?
হ্যাঁ, নিয়োগকর্তা পেলে অনেক ক্ষেত্রে দেশ না ছেড়েই স্ট্যাটাস পরিবর্তন করা যায়। তবে পুরো কাজটা করবে নিয়োগকর্তা, আপনি নিজে নয়। আর কোন ক্ষেত্রে একবার দেশের বাইরে যেতে হবে (এক্সিট), সেটা GDRFA বা ICP ঠিক করে।
ধাপগুলো
- নিয়োগকর্তা MOHRE-তে জব অফার ও ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করবে। এটা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত কিছুই এগোবে না।
- নিয়োগকর্তা এমপ্লয়মেন্ট এন্ট্রি পারমিট নেবে আর স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করবে।
- মেডিকেল ফিটনেস টেস্ট।
- এমিরেটস আইডির জন্য আঙুলের ছাপ।
- লেবার কন্ট্রাক্ট সই ও রেসিডেন্স ভিসা ইস্যু।
| খরচের খাত | দিরহাম | টাকায় (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| স্ট্যাটাস পরিবর্তন (দুবাই) | ৫৩৫–৫৭০ | ১৭,৯০০–১৯,১০০ |
| মেডিকেল (স্ট্যান্ডার্ড) | ২৭০ | ৯,১০০ |
| এমিরেটস আইডি (১ বছর) | ২০০ | ৬,৭০০ |
সূত্র: Sarmat, ফি যাচাইয়ের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। আইন অনুযায়ী এই খরচ নিয়োগকর্তার দেওয়ার কথা।
ঝুঁকি
- ভিজিট ভিসায় কাজ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। ওয়ার্ক পারমিট হাতে পাওয়ার আগে কাজ শুরু করবেন না।
- ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে গেলে দিনে ৫০ দিরহাম (প্রায় ১,৭০০ টাকা) জরিমানা।
- ভিজিট ভিসায় গিয়ে চাকরি নিলে বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র থাকে না, ফলে প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের সুবিধা পেতে সমস্যা হতে পারে।
- বাংলাদেশিদের ওয়ার্ক পারমিট এখন সীমিত, তাই “গিয়ে কনভার্ট করে দেব” প্রতিশ্রুতিতে ভিজিট ভিসায় যাওয়া বড় ঝুঁকি।
সূত্র
- ইত্তেফাক: আমিরাতে ৪৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- অবজারভার: দুবাই ট্যাক্সিতে ৬,০০০ ড্রাইভার নিয়োগ (১৮ মে ২০২৬)
- Business in Bangladesh: ভিসা চালুর দাবি (২ মে ২০২৬)
- যুগান্তর: আমিরাতের ভিসা নীতিতে পরিবর্তন (২৬ অক্টোবর ২০২৫)
- বাংলা ট্রিবিউন: ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দূতাবাসের বক্তব্য (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫)
- ঢাকা ট্রিবিউন: ভিসা আবার চালুর অগ্রগতি (৪ মে ২০২৫)
- eVisas.io: UAE ভিসা ফি
- FxFeed: দিরহাম-টাকা রেট
- Wego: ICP ভিসা স্ট্যাটাস চেক
- Gulf News: ভিসার খরচ কে দেবে
- Sarmat: ভিজিট থেকে এমপ্লয়মেন্ট ভিসা
- UNB: UAE ভিসার কাগজপত্র
- বাংলাদেশ মনিটর: ৫ বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা
✈️ এই বিষয়ে সাহায্য দরকার?
হজ্জ, উমরাহ ও সৌদি ভিসা নিয়ে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা আছি।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বাংলাদেশিরা কি দুবাই বিমানবন্দরে অন অ্যারাইভাল ভিসা পায়?
না। যাত্রার আগেই অনুমোদিত ই-ভিসা হাতে থাকতে হবে।
ভিসা রিজেক্ট হলে কি টাকা ফেরত পাওয়া যায়?
সাধারণত না। সরকারি ফি আর সার্ভিস চার্জ দুটোই ফেরতযোগ্য নয়। এজেন্সির সাথে আগেই লিখিতভাবে ঠিক করে নিন রিজেক্ট হলে কত ফেরত দেবে।
৫ বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি টুরিস্ট ভিসা কি বাংলাদেশিরা পাবে?
GDRFA জানিয়েছে এই ভিসা সব দেশের নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত। লাগে কমপক্ষে ৪,০০০ ডলার সমপরিমাণ ব্যাংক ব্যালেন্স, স্বাস্থ্য বীমা আর আসা-যাওয়ার টিকেট। প্রতিবার ৯০ দিন থাকা যায়, বছরে মোট ১৮০ দিনের বেশি নয় (বাংলাদেশ মনিটর)। আবেদনের আগে এজেন্সির কাছে জেনে নিন বাংলাদেশি পাসপোর্টে এখন এটা হচ্ছে কি না।
আমিরাতে থাকা অবস্থায় ভিসা বাতিল হলে কী করবেন?
প্রথমে ICP বা GDRFA-তে স্ট্যাটাস নিশ্চিত হোন। তারপর আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্ধারিত ইমেইলে নিজের তথ্য পাঠান, দূতাবাস একের পর এক ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করছে (ইত্তেফাক)। মেয়াদ পেরোলে জরিমানা শুরু হয়, তাই দেরি করবেন না।
দুবাই ওয়ার্ক ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে?
আইনে ভিসা ও নিয়োগের খরচ নিয়োগকর্তার দেওয়ার কথা। বাস্তবে অভিবাসন খরচ অনেক বেশি পড়ছে বলে দুবাই ট্যাক্সির ড্রাইভার নিয়োগে সরকার খরচ ১ লাখ টাকার মধ্যে রাখতে বলেছে। এর চেয়ে অনেক বেশি টাকা চাইলে সাবধান হোন।