মালয়েশিয়ার ভিসা শীঘ্রই চালু হচ্ছে আমরা এখন পাসপোর্ট জমা নিচ্ছি। বিস্তারিত জানতে ও পাসপোর্ট জমা দিতে যোগাযোগ করুন।
WhatsApp এ যোগাযোগকল করুন
general 23 May 2026 9 মিনিটের পড়া

বিএমইটি ম্যানপাওয়ার কার্ড ২০২৬: খরচ, ফি ও সব দেশের ধাপ

১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে বিএমইটি কল্যাণ ফি ২,০০০ টাকা বেড়ে ৫,৫০০। কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন, মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের ম্যানপাওয়ার খরচ ও ধাপ।

শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp
বিএমইটি ম্যানপাওয়ার কার্ড ২০২৬: খরচ, ফি ও সব দেশের ধাপ

বিএমইটি কার্ড কী, আর অক্টোবর ২০২৬-এ কী বদলেছে

বিদেশে চাকরি নিয়ে যেতে হলে ভিসা, মেডিকেল আর টিকিটের পাশাপাশি আরেকটা জিনিস লাগে: বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স, যাকে সবাই "ম্যানপাওয়ার কার্ড", "বিএমইটি কার্ড" বা "স্মার্ট কার্ড" বলে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এই ছাড়পত্র দেয়। এটা দিয়ে সরকার আপনাকে বৈধ বিদেশগামী কর্মী হিসেবে রেকর্ড করে, বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন যাচাই করে, আর বিদেশে কিছু হলে কল্যাণ বোর্ডের সুবিধা পাওয়ার পথ খোলে।

সবচেয়ে বড় খবর: ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে বিদেশগামী কর্মীর কল্যাণ ফি ৩,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫,৫০০ টাকা হয়েছে, মানে আগের চেয়ে ২,০০০ টাকা বেশি। এই ফি ২০১৫ সালে ঠিক হয়েছিল, এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বাড়ানো হলো (bdnews24, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬; ভোরের কাগজ)। এটা কাতার, কুয়েত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ইউরোপ, সৌদি আরব, সব দেশের জন্য একই। তাই সেপ্টেম্বরে যে ম্যানপাওয়ার খরচ শুনেছেন, অক্টোবরে সেটা অন্তত ২,০০০ টাকা বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক।

এক নজরে (অক্টোবর ২০২৬)

বিষয় তথ্য
কল্যাণ ফি ৫,৫০০ টাকা (সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩,৫০০)
বীমা ফি ১,০০০ টাকা
স্মার্ট কার্ড ফি বিনামূল্যে (আগে ৫০০ টাকা ছিল)
মোট সরকারি অংশ প্রায় ৭,১০০ টাকা (আগে ৫,১০০)
কোথায় আবেদন রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে, অথবা নিজে ভিসা পেলে বিএমইটির অনলাইন প্ল্যাটফর্মে
দেশভেদে আলাদা কী ভিসার ধরন (এজেন্সি/সিঙ্গেল), কাগজ সত্যায়ন, দক্ষতা পরীক্ষা, আর বাজার খোলা কি না

খেয়াল করুন: ওপরের ৭,১০০ টাকা শুধু সরকারি ফি। এজেন্সি যে "ম্যানপাওয়ার খরচ" বলে, তাতে সাধারণত সার্ভিস চার্জ, কাগজ যাচাই, ট্রেনিং, যাতায়াত ইত্যাদি যোগ থাকে। নিচে দেশ ধরে ধরে দেখানো হয়েছে কোথায় কী আলাদা।

এই গাইডে পাবেন: সব দেশের জন্য কমন ধাপ, ফি-র ভাঙানো হিসাব, তারপর কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন, মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর আর ইউরোপের আলাদা অংশ, যেখানে বলা আছে এখন সেখানে কর্মী যাচ্ছে কি না এবং কী বাড়তি কাগজ লাগে।

সব দেশের জন্য কমন ধাপ: বিএমইটি কার্ড কীভাবে হয়

দেশ যেটাই হোক, মূল ধাপগুলো একই ক্রমে চলে। কোন ধাপ আগে শেষ না হলে পরেরটা আটকে যায়।

  1. ভিসা হাতে পাওয়া ও যাচাই। আগে নিশ্চিত হোন ভিসাটা কাজের ভিসা, ভিজিট নয়। ভিজিট ভিসায় ম্যানপাওয়ার হয় না, আর ওই ভিসায় গিয়ে কাজ করা অবৈধ (ভিজিট ভিসা বনাম ওয়ার্ক ভিসা দেখুন)।
  2. মেডিকেল ফিট। বেশিরভাগ গন্তব্যে অনুমোদিত সেন্টারের ফিট রিপোর্ট লাগে। রিপোর্টের মেয়াদ থাকে, তাই মেডিকেল মেয়াদ আর মেডিকেল ডেট ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে নিন।
  3. বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন। পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে অনলাইনে করা যায়। ফি প্রায় ২০০ টাকা। সাধারণত যাত্রীরা নিজেই কম্পিউটার দোকান থেকে করিয়ে নেন। পেমেন্ট স্ক্রিনে যা দেখায় সেটাই চূড়ান্ত।
  4. ফিঙ্গারপ্রিন্ট (বায়োমেট্রিক)। নিকটস্থ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (ডিইএমও) বা বিএমইটি অফিসে গিয়ে নিজে উপস্থিত থেকে দিতে হয়। অন্য কেউ আপনার হয়ে দিতে পারে না। সরকারি ফি ২০০ টাকা।
  5. প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ (পিডিও)। সাধারণত ৩ দিনের ওরিয়েন্টেশন, যেখানে দেশের আইন, অধিকার, টাকা পাঠানোর নিয়ম শেখানো হয়। সার্টিফিকেট ছাড়া ক্লিয়ারেন্স হয় না। অনলাইন বুকিং: training.oep.gov.bd। সরকারি ফি ২০০ টাকা; যিনি আবেদন করে দেন তিনি আলাদা সার্ভিস চার্জ নেন।
  6. কল্যাণ ফি ও বীমা জমা। অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৫,৫০০ + ১,০০০ টাকা। রশিদ বা অনলাইন পেমেন্টের প্রমাণ রাখুন।
  7. ক্লিয়ারেন্স অনুমোদন ও কার্ড। এজেন্সির ভিসায় এজেন্সি আবেদন করে। নিজে ভিসা পেলে (সিঙ্গেল/ইন্ডিভিজুয়াল ভিসা) বিএমইটির নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম oc.bmet.gov.bd-এ বিনামূল্যে আবেদন করা যায়, ম্যানুয়াল পদ্ধতিও চালু আছে (TBS, এপ্রিল ২০২৫)। অনুমোদনের পর কিউআর কোডসহ স্মার্ট কার্ড পাওয়া যায়।
  8. ফ্লাইটের আগে চেক। কার্ডে নাম, পাসপোর্ট নম্বর, দেশ, কোম্পানির নাম ভিসার সাথে মিলছে কি না দেখুন। টিকিট কনফার্ম করতে বুকিং চেক ব্যবহার করুন।

কাগজপত্রের তালিকা (সাধারণ): মূল পাসপোর্ট, ভিসা কপি, মেডিকেল রিপোর্ট, চাকরির চুক্তিপত্র (বেতন লেখা থাকতে হবে), পিডিও সার্টিফিকেট, ফটো, আর দেশভেদে দক্ষতা সনদ বা পরীক্ষার ফল।

সরকারি ফি: সেপ্টেম্বর বনাম অক্টোবর ২০২৬

খাত সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে পার্থক্য
ওয়াগেস আর্নার্স কল্যাণ ফি ৩,৫০০ ৫,৫০০ +২,০০০
বীমা ফি ১,০০০ ১,০০০ —
বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন প্রায় ২০০ প্রায় ২০০ —
পিডিও (৩ দিনের ট্রেনিং) ২০০ ২০০ —
বিএমইটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট ২০০ ২০০ —
স্মার্ট কার্ড বিনামূল্যে বিনামূল্যে —
মোট প্রায় ৫,১০০ প্রায় ৭,১০০ +২,০০০

রেজিস্ট্রেশন, পিডিও ও ফিঙ্গারপ্রিন্টের ফি সৌদিযাবোর অভিজ্ঞতা (অক্টোবর ২০২৬); এগুলো যিনি আবেদন করে দেন তার সার্ভিস চার্জ আলাদা।

সূত্র: bdnews24, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। স্মার্ট কার্ডের ২৫০ টাকা করে দুটি ফি (কার্ড ও সংশোধন) নভেম্বর ২০২৪ থেকে বাতিল (TBS, ১ ডিসেম্বর ২০২৪)।

কেন বাড়লো: মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, কল্যাণ সেবা বাড়ানো আর ডলারের দামের সাথে সমন্বয়।

কল্যাণ ফি দিয়ে আপনি কী পান

এই টাকা ফেরতযোগ্য নয়, কিন্তু বিপদে পরিবারের কাজে আসে:

  • বিদেশে মৃত্যু হলে লাশ দাফন ও পরিবহনের জন্য ৩৫,০০০ টাকার চেক (ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেট বিমানবন্দরে)
  • মৃত কর্মীর পরিবারকে এককালীন ৩,০০,০০০ টাকা অনুদান
  • অসুস্থ প্রবাসীর চিকিৎসা সহায়তা
  • কর্মীর সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি

(সূত্র: bdnews24)। তাই কার্ড ছাড়া গেলে শুধু বিমানবন্দরে ঝামেলা নয়, পরিবার এই সুরক্ষাও হারায়।

বিমানবন্দরে কার্ডের বাড়তি সুবিধা: ১০০ টাকায় লাগেজ র‍্যাপিং

ঢাকা বিমানবন্দরে লাগেজ র‍্যাপিং মেশিনের নোটিশ অনুযায়ী, সাধারণ যাত্রীদের জন্য প্রতি পিস ৩০০ টাকা, কিন্তু বিএমইটি কার্ডধারীদের জন্য প্রতি পিস ১০০ টাকা। এজন্য কাউন্টারে কার্ড দেখাতে হয়। কার্ড দেখানোর পরও ১০০ টাকায় না করলে বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। তাই ফ্লাইটের দিন কার্ডের কপি বা ফোনে ছবি হাতের কাছে রাখুন। (সূত্র: ঢাকা বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বুথের পাশের র‍্যাপিং মেশিনের নোটিশ, অক্টোবর ২০২৬)

এজেন্সির সার্ভিস চার্জে আপনি কী পান

সরকারি অংশ প্রায় ৭,১০০ টাকা। এজেন্সির মাধ্যমে করলে এর সঙ্গে সার্ভিস চার্জ যোগ হয়, আর সেই টাকায় পুরো কাজের দায়িত্ব এজেন্সি নেয়:

  • আবেদন: রেজিস্ট্রেশন থেকে ক্লিয়ারেন্স পর্যন্ত সব অনলাইন আবেদন
  • তদারকি: কোন ধাপ কোথায় আটকে আছে নজর রাখা, কাগজে ভুল হলে ঠিক করা
  • বিএমইটি অফিসে দৌড়াদৌড়ি: আপনাকে বারবার অফিসে ঘুরতে হয় না
  • কার্ড প্রিন্ট ও পরে আবার ডাউনলোড: এখন এটা শুধু এজেন্সিই পারে
  • জবাবদিহি: লাইসেন্সধারী এজেন্সি হলে সমস্যায় কাকে ধরবেন, সেটা জানা থাকে

এর পেছনে এজেন্সির অফিস খরচ, স্টাফের বেতন ও লাইসেন্সের বিনিয়োগ থাকে, তাই একটা যুক্তিসঙ্গত সার্ভিস চার্জ স্বাভাবিক। দাম জিজ্ঞেস করার সময় শুধু জেনে নিন মোট টাকায় কী কী সেবা আছে, আর রশিদ দেবে কি না।

সৌদিযাবোতে: সরকারি ফিসহ মোট ৯,০০০ টাকায় পুরো ম্যানপাওয়ার (কাতারের নন-এটেস্টেড ভিসায় ৯,৫০০–১০,০০০)। আপনার ফাইল নিয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করুন। সৌদির ক্ষেত্রে ম্যানপাওয়ার ভিসা প্রসেসিংয়ের মধ্যেই ধরা, বিস্তারিত সৌদি ওয়ার্ক ভিসার খরচ গাইডে।

কাতার ম্যানপাওয়ার (বিএমইটি কার্ড)

বাজারের অবস্থা: খোলা। ২০২৫ সালে ৪২,৫১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী কাতারে গেছেন (মানবজমিন, ১৪ অক্টোবর ২০২৬), আর সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ এক মাসেই ক্লিয়ারেন্স পেয়েছেন ৬,২৮২ জন (TBS)।

কাতারের বিশেষ ধাপ: কাতারের ওয়ার্ক ভিসার মেডিকেল, বায়োমেট্রিক আর চুক্তিপত্রে সই ঢাকার কাতার ভিসা সেন্টারে (কিউভিসি) হয়, তারপর বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স। ভিসা আসল কি না আগে দেখে নিন: কাতার ভিসা চেক।

এটেস্টেড বনাম নন-এটেস্টেড: কাতারের কিছু ভিসার কাগজ দূতাবাসে সত্যায়িত (এটেস্টেড) থাকে, কিছু থাকে না। এটেস্টেড হলে ক্লিয়ারেন্স সহজ ও খরচ অনুমানযোগ্য; নন-এটেস্টেড হলে বাড়তি যাচাই লাগে, তাই খরচ ওঠানামা করে।

ভিসার ধরন সৌদিযাবোর আগের প্রকাশিত বাজারদর (মে ২০২৬) অক্টোবর ২০২৬
এটেস্টেড প্রায় ৬,০০০ টাকা ৯,০০০ টাকা, সরকারি ফিসহ (সৌদিযাবোর বর্তমান রেট)
নন-এটেস্টেড ৭,০০০ থেকে ২০,০০০+ টাকা সাধারণত ৯,৫০০–১০,০০০ টাকা (সৌদিযাবোর বর্তমান রেট; ফাইলের অবস্থা বুঝে কম-বেশি)

নোট: মে ২০২৬-এর "৬,০০০ টাকা" আসলে তখনকার সরকারি ৫,১০০ টাকার কাছাকাছি। এখন শুধু সরকারি অংশই ৭,১০০, তাই ৬,০০০ টাকায় কাতারের ম্যানপাওয়ার আর সম্ভব নয়।

ড্রাইভিং ভিসা: লাইসেন্স না থাকলে বাড়তি খরচ লাগে।

কাতারে যাওয়ার পুরো পথ জানতে: কাতার যাওয়ার উপায় ২০২৬।

কুয়েত ম্যানপাওয়ার (বিএমইটি কার্ড)

বাজারের অবস্থা: খোলা, তবে ছোট। ২০২৫ সালে কুয়েতে গেছেন ২০,২৫৪ জন (মানবজমিন), সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ক্লিয়ারেন্স ৪,৫৩৮ জন (TBS)। এপ্রিল ২০২৬-এ সংসদে মন্ত্রীও কুয়েতকে চালু শ্রমবাজার বলেছেন (সিলেটভিউ)।

কুয়েতের বিশেষ ধাপ:

  • মেডিকেল হয় জিসিসির ওয়াফিদ (আগের গামকা) ব্যবস্থায় অনুমোদিত সেন্টারে।
  • কুয়েতে ভিসা কেনাবেচার অভিযোগ পুরনো, তাই স্পনসর কোম্পানি আসল কি না, আর চুক্তিতে যে বেতন লেখা সেটা কোম্পানি দিচ্ছে কি না, দুটোই যাচাই করুন।
  • বিএমইটি কার্ডে যে কোম্পানির নাম আসবে, ভিসায়ও সেই নাম থাকতে হবে।

ম্যানপাওয়ার খরচ (অক্টোবর ২০২৬): সরকারি অংশ ৭,১০০ টাকা। সৌদিযাবোতে ম্যানপাওয়ার খরচ এখন ৯,০০০ টাকা, সরকারি ফিসহ (অক্টোবর ২০২৬)।

ওমান ম্যানপাওয়ার (বিএমইটি কার্ড)

বাজারের অবস্থা: বেশিরভাগ ক্যাটাগরিতে এখনও বন্ধ। এপ্রিল ২০২৬-এ সংসদে মন্ত্রী ওমানকে বন্ধ শ্রমবাজারের তালিকায় রেখেছেন (সিলেটভিউ)। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ একটি চুক্তি সই হয়েছে, যাতে ওমান ১০,০০০ বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে: ৫,০০০ কৃষিকর্মী আর ৫,০০০ জেলে। তবে সেই খবরেই বলা হয়েছে, কিছু ক্যাটাগরিতে ভিসা বিধিনিষেধ বহাল আছে, আর বাস্তবায়নের খুঁটিনাটি এখনো ঠিক হয়নি (Muscat Daily, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬)।

আপনার জন্য মানে:

  • কেউ যদি এখন সাধারণ ক্লিনার/লেবার ভিসায় ওমান পাঠানোর কথা বলে টাকা চায়, আগে ভিসাটা হাতে দেখুন, তারপর বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স হবে কি না নিশ্চিত হোন। ভিসা ছাড়া অগ্রিম টাকা দেবেন না।
  • কৃষি ও মৎস্য খাতের নতুন চাহিদা কোন পথে (সরকারি বোয়েসেল নাকি বেসরকারি এজেন্সি) যাবে, সেটা এখনো ঘোষণা হয়নি।
  • মেডিকেল হয় ওয়াফিদ ব্যবস্থায়।

বাহরাইন ম্যানপাওয়ার (বিএমইটি কার্ড)

বাজারের অবস্থা: নতুন ওয়ার্ক ভিসা বন্ধ। ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক ভিসা বন্ধ, ফ্যামিলি ও ভিজিট ভিসাতেও কড়াকড়ি (bdnews24, জুলাই ২০২৬, হালনাগাদ ৮ সেপ্টেম্বর)। মন্ত্রীর এপ্রিলের সংসদ বক্তব্যেও বাহরাইন বন্ধ শ্রমবাজারের তালিকায় (সিলেটভিউ)।

তাহলে বাহরাইনের ম্যানপাওয়ার কার লাগে?

  • যারা আগে থেকেই বাহরাইনে কাজ করছেন এবং ছুটিতে এসে ফিরছেন, তাদের বিষয়টা আলাদা। ছুটিতে এসে একই ভিসায় ফেরার সময় নতুন করে ম্যানপাওয়ার করতে হয় না (সৌদিযাবো, অক্টোবর ২০২৬)।
  • ছুটিতে এলে কিছু কর্মীর ভিসা হঠাৎ বাতিল হওয়ার অভিযোগ আছে, তাই ফেরার আগে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে ভিসার স্ট্যাটাস নিশ্চিত করুন।
  • নতুন কর্মী হিসেবে কেউ বাহরাইনের ওয়ার্ক ভিসা ও ম্যানপাওয়ার দিতে পারবে বললে, সাবধান হোন।

বিস্তারিত: বাহরাইন ভিসা ২০২৬।

মালদ্বীপ ম্যানপাওয়ার (বিএমইটি কার্ড)

বাজারের অবস্থা: কর্মী যাচ্ছেন, তবে শর্ত কড়া। মে ২০২৪-এ এক দেশ থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ কর্মীর সীমা পূর্ণ হওয়ায় মালদ্বীপ বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ধ করেছিল (প্রথম আলো, মে ২০২৪)। কিন্তু সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ এক মাসে ৫,০১৫ জন মালদ্বীপের ক্লিয়ারেন্স পেয়েছেন (TBS), অর্থাৎ এখন আবার কর্মী যাচ্ছেন।

মালদ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম:

  • অনুমোদিত নিয়োগকর্তার মাধ্যম ছাড়া সেখানে কাজের সুযোগ নেই। অনুমোদন ছাড়া গিয়ে অদক্ষ কর্মীদের আগে ফেরত পাঠানো হয়েছে (প্রথম আলো)।
  • এখন চাহিদা বাড়ছে দক্ষ পেশাজীবীদের: নার্স, হিসাবরক্ষক ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ, বিশেষ করে স্বাস্থ্য, পর্যটন ও অবকাঠামো খাতে (ঢাকা ট্রিবিউন, জুলাই ২০২৬)।
  • দক্ষ পেশার ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট সত্যায়ন (যেমন অ্যাপোস্টিল) লাগতে পারে: ই-অ্যাপোস্টিল স্ট্যাটাস চেক।

ম্যানপাওয়ার খরচ: সরকারি অংশ ৭,১০০ টাকা। সৌদিযাবোতে ম্যানপাওয়ার খরচ এখন ৯,০০০ টাকা, সরকারি ফিসহ (অক্টোবর ২০২৬)।

সিঙ্গাপুর ম্যানপাওয়ার (বিএমইটি কার্ড)

বাজারের অবস্থা: খোলা ও বড়। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সৌদি আরবের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সিঙ্গাপুর: ৮,৩০৬ জন ক্লিয়ারেন্স পেয়েছেন (TBS)।

সিঙ্গাপুরের বিশেষ ধাপ:

  • নিয়োগকর্তা সিঙ্গাপুর সরকারের কাছ থেকে ইন-প্রিন্সিপল অ্যাপ্রুভাল (আইপিএ) নেয়। আইপিএই আপনার ভিসার কাগজ, এটা দিয়েই বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স হয়।
  • নির্মাণ খাতে যাওয়ার আগে সিঙ্গাপুরের বিসিএ-অনুমোদিত বিদেশি টেস্ট সেন্টারে দক্ষতা পরীক্ষায় পাস করতে হয়। টেস্ট বুকিং ও ফল থাকে OTMS সিস্টেমে।
  • সিঙ্গাপুরে খরচের বড় অংশ টেস্ট সেন্টারের প্রশিক্ষণ ও আইপিএ-তে, ম্যানপাওয়ার তার তুলনায় ছোট অংশ।

বিস্তারিত: সিঙ্গাপুর ভিসা ২০২৬।

ইউরোপের ম্যানপাওয়ার (ইতালি, পর্তুগাল, রোমানিয়া, সার্বিয়া ও অন্যান্য)

বাজারের অবস্থা: বাড়ছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (২৫ জুন পর্যন্ত) বৈধভাবে ইউরোপে গেছেন ১৮,২২০ জন, আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৬.৪% বেশি। সবচেয়ে বেশি ইতালিতে (৪,৬৪৫ জন); পর্তুগাল, সার্বিয়া, রোমানিয়া, রাশিয়া ও বেলারুশেও নিয়োগ বাড়ছে (TBS, ৩০ জুন ২০২৬)। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ পর্তুগালের ক্লিয়ারেন্স ১,২৪৯ আর ইতালির ১,০৯৭ (TBS)।

ইউরোপে গালফ থেকে কী আলাদা

  • আগে ওয়ার্ক পারমিট, তারপর ভিসা: নিয়োগকর্তা ওই দেশের সরকার থেকে কাজের অনুমতি (যেমন ইতালির নুল্লা ওস্তা) নেয়, তারপর আপনি দূতাবাসে ভিসার আবেদন করেন।
  • দূতাবাস প্রায়ই দেশের বাইরে: কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের ভিসা আবেদন বাংলাদেশের বাইরে, বিশেষ করে ভারতে প্রসেস হয়। ভারতীয় ভিসা পেতে সমস্যা হলে পুরো প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায় (TBS)। সৌদিযাবোর অভিজ্ঞতায়, বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশের কাজের ভিসার জন্য দিল্লিতে গিয়ে দূতাবাসে সাক্ষাৎকার দিতে হয়, ঢাকায় হয় না বললেই চলে। তাই আগেই ভারতের ভিসা ঠিক রাখুন, আর আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সাইটে নিশ্চিত হোন কোথায় জমা দিতে হবে।
  • সময় বেশি লাগে: ওয়ার্ক পারমিট ও দূতাবাসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, দুটোতেই অপেক্ষা। তাই পাসপোর্টের মেয়াদ যথেষ্ট রাখুন।
  • বিএমইটি কার্ড এখানেও লাগে: ভিসা পাওয়ার পর উপরের কমন ধাপগুলো (ফিঙ্গারপ্রিন্ট, পিডিও, ৭,১০০ টাকা ফি) একই।
  • সরকারি পথ: বোয়েসেলের মাধ্যমে ইউরোপের কিছু দেশে স্বল্প বা বিনা খরচে কর্মী পাঠানো হচ্ছে বলে সংসদে জানানো হয়েছে (সিলেটভিউ); বিজ্ঞপ্তি দেখুন boesl.gov.bd-তে।

সাবধান: লিবিয়া হয়ে নৌকায় ইতালি, বা "সার্বিয়া থেকে হাঁটিয়ে ইউরোপ" কোনো চাকরি নয়, এটা পাচারের পথ আর জীবনের ঝুঁকি। বৈধ ওয়ার্ক পারমিট, দূতাবাসের ভিসা আর বিএমইটি কার্ড, এই তিনটা ছাড়া ইউরোপে যাওয়ার কোনো নিরাপদ পথ নেই।

ম্যানপাওয়ার খরচ: সরকারি অংশ ৭,১০০ টাকা। সৌদিযাবোতে ম্যানপাওয়ার খরচ এখন ৯,০০০ টাকা, সরকারি ফিসহ (অক্টোবর ২০২৬)।

সাধারণ ভুল আর প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়

ভুল কী হয় কী করবেন
ভিজিট ভিসায় কাজের আশায় যাওয়া ম্যানপাওয়ার হয় না, কল্যাণ সুবিধা নেই, অবৈধ হয়ে যান শুধু ওয়ার্ক ভিসায় যান
কার্ডে নাম/পাসপোর্ট নম্বর ভুল বিমানবন্দরে আটকে যেতে পারেন কার্ড হাতে পেয়েই মিলিয়ে দেখুন; সংশোধনের ফি এখন নেই
রশিদ ছাড়া টাকা দেওয়া পরে অভিযোগ করার প্রমাণ থাকে না বিকাশ/ব্যাংক বা লিখিত রশিদ নিন
"সরকারি ফি বেড়েছে" বলে অনেক বেশি চাওয়া অক্টোবরের বৃদ্ধি মাত্র ২,০০০ টাকা সরকারি অংশ ৭,১০০ টাকা; মোট টাকায় কী কী সেবা আছে জেনে নিন, রশিদ নিন
লাইসেন্সবিহীন দালালের কাছে পাসপোর্ট দেওয়া পাসপোর্ট আটকে রেখে টাকা চাওয়া লাইসেন্সধারী এজেন্সি (আরএল নম্বর) যাচাই করুন: এজেন্সি তালিকা

কোনো সমস্যা হলে কোথায় যাবেন: নিকটস্থ ডিইএমও অফিস বা বিএমইটি, অথবা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট probashi.gov.bd। প্রবাসী কল সেন্টার (টোল-ফ্রি): দেশ থেকে ১৬১৩৫, বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০১০২০৩০ (bdnews24, জুলাই ২০২৬)।

✈️ এই বিষয়ে সাহায্য দরকার?

হজ্জ, উমরাহ ও সৌদি ভিসা নিয়ে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা আছি।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বিএমইটি কার্ড করতে এখন সরকারি ফি কত?
১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কল্যাণ ফি ৫,৫০০, বীমা ১,০০০, আর রেজিস্ট্রেশন, পিডিও ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলিয়ে ৬০০; মোট প্রায় ৭,১০০ টাকা। স্মার্ট কার্ড বিনামূল্যে।
ফি কি সব দেশের জন্য একই?
হ্যাঁ, কল্যাণ ফি ও বীমা দেশভেদে আলাদা নয়। আলাদা হয় এজেন্সির চার্জ আর দেশের বিশেষ ধাপের খরচ।
নিজে ভিসা পেলে কি এজেন্সি ছাড়া কার্ড করা যায়?
হ্যাঁ, বিএমইটির [oc.bmet.gov.bd](https://oc.bmet.gov.bd) প্ল্যাটফর্মে আবেদন করা যায়, ম্যানুয়াল পদ্ধতিও আছে।
বাহরাইন বা ওমানের ম্যানপাওয়ার কি এখন হচ্ছে?
বাহরাইনে নতুন ওয়ার্ক ভিসা ২০১৮ থেকে বন্ধ। ওমানে বেশিরভাগ ক্যাটাগরি এখনো বন্ধ, তবে কৃষি ও মৎস্য খাতে ১০,০০০ কর্মী নেওয়ার চুক্তি হয়েছে (সেপ্টেম্বর ২০২৬)।
কার্ড ছাড়া গেলে কী ক্ষতি?
বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে আটকানোর ঝুঁকি তো আছেই; সবচেয়ে বড় ক্ষতি, বিদেশে মৃত্যু বা অসুস্থতায় পরিবার কল্যাণ বোর্ডের সহায়তা (যেমন ৩ লাখ টাকার অনুদান) পাবে না।
কার্ড হারিয়ে গেলে কী করব?
কার্ডের তথ্য সবসময় অনলাইনে থাকে। আগে যে কেউ ডাউনলোড করতে পারত, এখন শুধু রিক্রুটিং এজেন্সি তাদের পোর্টাল থেকে ডাউনলোড করতে পারে। তাই যে এজেন্সির মাধ্যমে ম্যানপাওয়ার করেছেন, তাদের কাছে গেলেই আবার প্রিন্ট করে দিতে পারবে। (সৌদিযাবো, অক্টোবর ২০২৬)

🔗 সম্পর্কিত লেখা

💬