মালয়েশিয়ার ভিসা শীঘ্রই চালু হচ্ছে আমরা এখন পাসপোর্ট জমা নিচ্ছি। বিস্তারিত জানতে ও পাসপোর্ট জমা দিতে যোগাযোগ করুন।
WhatsApp এ যোগাযোগকল করুন
visa 11 Oct 2026 3 মিনিটের পড়া

মালয়েশিয়া টুরিস্ট ভিসা ২০২৬: খরচ, আবেদন ও চেক করার নিয়ম

বাংলাদেশিরা অনলাইনে ই-ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়ায় বেড়াতে যেতে পারেন, সরকারি খরচ প্রায় ১২৫ রিংগিত (আনুমানিক ৩,৮০০ টাকা) এবং থাকা যায় সর্বোচ্চ ৩০ দিন। কিন্তু ভিসা পেলেই ঢোকার নিশ্চয়তা নেই, তাই কাগজপত্র, MDAC ও বিমানবন্দরের নিয়ম জেনে যান।

শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp
মালয়েশিয়া টুরিস্ট ভিসা ২০২৬: খরচ, আবেদন ও চেক করার নিয়ম

বাংলাদেশিরা অনলাইনে ই-ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়ায় বেড়াতে যেতে পারেন। সরকারি খরচ প্রায় ১২৫ রিংগিত (আনুমানিক ৩,৮০০ টাকা), থাকা যায় সর্বোচ্চ ৩০ দিন। কিন্তু ভিসা পেলেই ঢোকার নিশ্চয়তা নেই। ২০২৫ সালে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে এক দিনেই ১২৩ জন টুরিস্ট ভিসাধারী বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার ২০২৬: খুলেছে কি জানুন বিস্তারিত

এক নজরে:

  • ভিসার ধরন: ই-ভিসা, সিঙ্গেল এন্ট্রি
  • থাকা: সর্বোচ্চ ৩০ দিন, ভিসা ইস্যুর ৩ মাসের মধ্যে ঢুকতে হবে
  • সময়: সাধারণত ২–৩ কর্মদিবস
  • ঢোকার আগে: ৩ দিনের মধ্যে বিনামূল্যে MDAC (ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ড) জমা দিতে হবে
  • কাজ: টুরিস্ট ভিসায় কাজ করা বেআইনি

মালয়েশিয়া টুরিস্ট ভিসার খরচ কত

সরকারি খরচ মোট ১২৫ রিংগিত, প্রায় ৩,৮০০ টাকা। এজেন্সি দিয়ে করালে এর সাথে তাদের সার্ভিস চার্জ যোগ হয়।

খরচের খাত রিংগিত টাকায় (আনুমানিক)
ভিসা ফি ২০ ৬০০
প্রসেসিং ফি ১০৫ ৩,২০০
মোট সরকারি খরচ ১২৫ ৩,৮০০
এজেন্সির সার্ভিস চার্জ — ১০,০০০-৩০,০০০

সূত্র: VisaFeeCalculator। হিসাব: ১ রিংগিত = ৩০.১৭ টাকা (১০ অক্টোবর ২০২৬)। অনলাইনে কার্ডে পেমেন্ট করলে সামান্য অতিরিক্ত চার্জ কাটে।

আবেদন বাতিল হলে ফি ফেরত হয় না। তাই সব কাগজ ঠিক করে তারপর আবেদন করুন।

ভিসা ফির বাইরে যা লাগবে: রিটার্ন টিকেট, হোটেল বুকিং, আর মালয়েশিয়ায় খরচ করার মতো নগদ টাকা বা বৈদেশিক মুদ্রা। বিমানবন্দরে এগুলো দেখাতে না পারলে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

কাগজপত্র ও আবেদনের ধাপ

আবেদন পুরোটাই অনলাইনে, মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের ই-ভিসা পোর্টাল malaysiavisa.imi.gov.my-এ। নিজে করা যায়, আবার এজেন্সি দিয়েও করানো যায় (VISAThing)।

যে কাগজ লাগবে (VisaFeeCalculator):

  • কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদি পাসপোর্ট, অন্তত ৩টি ফাঁকা পাতা
  • সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • শেষ ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট
  • রিটার্ন টিকেট, ফেরার তারিখ ঢোকার ৩০ দিনের মধ্যে
  • পুরো সময়ের হোটেল বুকিং
  • চাকরিজীবী হলে অফিসের ছুটির চিঠি (NOC), ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স

আবেদনের ধাপ:

  1. ই-ভিসা পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলুন।
  2. পাসপোর্টের সাথে হুবহু মিলিয়ে ফরম পূরণ করুন।
  3. কাগজের স্ক্যান কপি আপলোড করুন।
  4. অনলাইনে ফি পরিশোধ করুন।
  5. ২–৩ কর্মদিবসে ইমেইলে ই-ভিসা আসবে, সেটা প্রিন্ট করে সাথে রাখুন।

ব্যাংক স্টেটমেন্টে হঠাৎ বড় অঙ্কের জমা (যেমন আবেদনের আগে ধার করে টাকা রাখা) দেখলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

ভিসা চেক ও মালয়েশিয়া ঢোকার আগে MDAC

ভিসা চেক

যে ই-ভিসা পোর্টালে আবেদন করেছেন, সেখানে লগইন করে আবেদনের অবস্থা দেখা যায়। এজেন্সি দিয়ে করালে তাদের কাছ থেকে আবেদন নম্বর নিয়ে রাখুন। শুধু একটা ছবি বা পিডিএফ পেলেই ভরসা করবেন না।

MDAC (মালয়েশিয়া ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ড)

মালয়েশিয়ায় ঢোকা সব বিদেশিকে পৌঁছানোর আগের ৩ দিনের (৭২ ঘণ্টা) মধ্যে এটা জমা দিতে হয় (Trip.com)।

  • সরকারি লিংক: imigresen-online.imi.gov.my/mdac/main
  • ফি নেই, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কেউ টাকা চাইলে সেটা ভুয়া সাইট।
  • লাগবে পাসপোর্টের তথ্য, ফ্লাইট নম্বর, ফেরার তারিখ আর হোটেলের ঠিকানা।
  • শিশুসহ প্রত্যেক যাত্রীর আলাদা MDAC লাগবে।

টুরিস্ট ভিসায় কি কাজ করা যায়?

না। টুরিস্ট ভিসায় কাজ করলে পাসের শর্ত ভঙ্গ হয়, আর মেয়াদ পেরোলে সরাসরি অবৈধ। ধরা পড়লে ১০,০০০ রিংগিত পর্যন্ত জরিমানা ও ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।

বাংলাদেশি টুরিস্টদের ওপর মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে নজরদারি অনেক কড়া। কয়েকটি ঘটনা:

তারিখ কী ঘটেছে
৬ আগস্ট ২০২৫ ঢাকা থেকে দুই ফ্লাইটে আসা ২৬ জনকে পরের ফ্লাইটে ফেরত, কারণ আসার উদ্দেশ্য সন্দেহজনক (বার্নামা)
জুলাই ২০২৫ এক অভিযানে ১২৩ জন টুরিস্ট ভিসাধারী বাংলাদেশি ফেরত, এর আগে ১১ জুলাই আরও ৯৬ জন (ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস)

ফেরত পাঠানোর কারণগুলো, মালয়েশিয়ার সীমান্ত সংস্থার ভাষ্যমতে:

  • প্রয়োজনীয় কাগজ নেই
  • খরচ করার মতো যথেষ্ট টাকা বা বৈদেশিক মুদ্রা নেই
  • হোটেল বুকিং নেই
  • ভ্রমণের উদ্দেশ্য পরিষ্কার বলতে পারেননি

ফেরত পাঠানো হলে ভিসা, টিকেট আর দালালকে দেওয়া টাকা সব হারাবেন। কেউ "টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে কাজ ঠিক করে দেব" বললে সেটা প্রতারণা। কাজের জন্য যেতে চাইলে শ্রমবাজারের আনুষ্ঠানিক পথের জন্য অপেক্ষা করুন।

✈️ এই বিষয়ে সাহায্য দরকার?

হজ্জ, উমরাহ ও সৌদি ভিসা নিয়ে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা আছি।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশিরা কি মালয়েশিয়ায় অন অ্যারাইভাল ভিসা পায়?

না। যাওয়ার আগেই ই-ভিসা নিতে হবে।

ই-ভিসা পেতে কত দিন লাগে?

সাধারণত ২–৩ কর্মদিবস। বাড়তি কাগজ চাইলে বেশি সময় লাগতে পারে, তাই যাত্রার অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করুন।

ভিসার মেয়াদ কি বাড়ানো যায়?

সিঙ্গেল এন্ট্রি টুরিস্ট ই-ভিসা সাধারণত বাড়ানো যায় না। ৩০ দিনের মধ্যে ফিরতে হবে।

আবেদন বাতিল হলে কী করব?

ফি ফেরত পাবেন না। কোন কাগজের ঘাটতি ছিল তা ঠিক করে তারপর আবার আবেদন করুন।

ই-ভিসা থাকলেই কি মালয়েশিয়ায় ঢুকতে দেবে?

না। শেষ সিদ্ধান্ত বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন অফিসারের। রিটার্ন টিকেট, হোটেল বুকিং, নগদ টাকা আর MDAC সাথে রাখুন।

🔗 সম্পর্কিত লেখা

💬